Tahsin Abrar's WebLog

Think different.. Be Passionate!

ঈদ মোবারক – আমার ঈদ – ডায়েরি

ঈদ মোবারক — আমার নিজের ওয়েবসাইটের জন্য এটাই আমার প্রথম লেখা। এর আগে আমার পুরাতন কিছু লেখা একত্রিত করে ওয়েবসাইটের কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু করেছিলাম। আর এই লেখা দিয়েই আমার নিজের ব্লগে লেখালেখির যাত্রা শুরু করলাম। :) ঈদের দিনে নিজের ওয়েবসাইট চালু করতে পেরে বেশ আনন্দই লাগছে।

ঈদ — আজ ঈদ-উল-ফিতর। মহা খুশির এবং আনন্দের একটা দিন। ঈদের নামায শেষে বেরিয়ে দেখি রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের ভিড়, মানুষজন একে অপরের সাথে কোলাকুলি করছে। ব্যাপারটা দেখতেই ভালো লাগে। যদিও মাঝে মাঝে কিছু বজ্জাত পোলাপাইন বাজি ফুটিয়ে বিরক্তি তৈরি করছে। এটা বাদে সবকিছুই ভালো লাগছে। সারা বছর ধরে রোযার ঈদ এবং কোরবানীর ঈদ – এ দু’টো ঈদের জন্য আমরা অধীর অপেক্ষায় বসে থাকি। কেউ হয়তো আনন্দ করি ঈদের দিন, কেউ করি ঈদের পরের দিন বা তারও পরের দিন। মোদ্দা কথা, ঈদ নিয়ে আসে আমাদের জন্য আনন্দের বার্তা, যা আমাদের ব্যস্ত জীবনে খানিকটা হলেও প্রশান্তি নিয়ে আসে। Read More

আসুন একটা হাইপোথেটিক্যাল ব্যাপার চিন্তা করি!

ধরা যাক, আমার শহরে বিরাট এক মিষ্টি ব্যবসায়ী আছেন – শ্রীমান বিলমদন ঘোষাল। মিষ্টি ব্যবসা করে তিনি প্রভূত অর্থের মালিক হয়েছেন, তার নামে অনেক দাতব্য সংস্থাও আছে। উনার মূল প্রতিষ্ঠান মাইক্রোমিষ্টান্ন ভান্ডারের সুনাম চারিদিকে, শহরের ৮০% লোকই উনার দোকানের মিষ্টি কেনে। উনি চড়া দাম যেমন রাখেন, আবার জিনিসও দেন প্রিমিয়াম মানের। মাঝে মধ্যে কেউ কেউ মাইক্রোর মিষ্টিতে সহজে পোকামাকড় ধরে যায়, বেশিদিন ফেলে রাখা যায়না এই ধরণের অভিযোগ করে বটে, কিন্তু জিনিসটা বেসিক্যালী ভালোই।
আবার ধরি, আমাদের শহরে আছেন আরেক মিষ্টি সমঝদার ড: মো: লিউনুস তোরভাহল্ডস – তিনি খুব প্রতিভাবান, নোবেল টোবেলও পাইতে পারেন বলে কানাঘুষা শোনা যায়। উনার আবার ব্যবসা বাণিজ্যে তেমন একটা খেয়াল নাই, মাঝেমাঝেই ফ্রি মিষ্টি বানিয়ে সবার মাঝে বিতরণ করেন। Read More

নতুনত্বের চিন্তা: রাজনীতিতে ভর্তি পরীক্ষা!

মানুষ চিন্তাশীল এবং নতুনত্বের খোঁজে এবং অন্বেষণের পথে চিরকাল ধাবমান। এই পরিবর্তনশীলতার পথে আমরা বাংলাদেশীরাও এগিয়ে চলছি। যেহেতু আমি একজন মানুষ, তাই হাজারো চিন্তা এসে ভিড় করে আমার মাথায়। তেমনি একটি চিন্তা আমার মাথায় এসে একদিন টোকা দিল। আমি এর আগে কখনো রাজনীতি বিষয়ক লেখা লিখিনি এবং লিখতে চাইওনা। কিন্তু আজ যে লেখাটি লিখেছি, সেটি আমার মনে সাড়া দেওয়াতে লিখলাম। এজন্যই আপনাদের সাথে কথাগুলো শেয়ার করা। এটি আসলে রাজনীতি বিষয়ক লেখা নয়, তবে রাজনীতিকে প্রেক্ষিত করে লেখা।
বাংলাদেশে যেকোন গুরুত্বপূর্ণ পেশাতে চাকরি পাওয়ার জন্য, যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার জন্য সকলকে নির্বাচনী বা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তাদের যোগ্যতা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানে, একটি মাত্র পেশায় কোন ধরণের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন ধরণের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়না। আর সেই মহান প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং মহান পেশা হচ্ছে রাজনীতিবিদ। আর এজন্যই দেখা যাচ্ছে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতা, দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া, সন্ত্রাস, সবোর্পরি অনুন্নত দেশ হওয়ার তকমা নিয়ে বিদেশীদের সকল আদেশ মাথা পেতে নেয়ার লজ্জা, বিদেশীদের কথা মতো পুতুল নাচ নাচা। Read More

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: তোমার পৃথিবী তোমাকেই চায়

পরিবেশটা আসলে কী? আমরা সবাই জানি, আমাদের আশেপাশের সবকিছু নিয়েই পরিবেশ গঠিত। প্রতিবছর ৫ জুন “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। চলুন এখন আমরা একটু ঘুরে আসি অতীতে এবং দেখে আসি কিভাবে এই দিনটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে:

জীব সম্পদের মানবকল্যাণমুখী গুরুত্ব ও পৃথিবীর স্থায়িত্ব রক্ষায় ওদের ভূমিকার কথা অনুধাবন করে পৃথিবীর সকল দেশ ১৯৯২ সালের ৫ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো-তে মিলিত হয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও গবেষণায় একমত হয়েছেন। পরিবেশ বিষয়ক এ সম্মেলন Earth Summit বা ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত। এটি ছিল জাতিসংঘের বৃহত্তম সম্মেলন। এ সম্মেলনে Agenda 21: Earth’s Action Plan শীর্ষক দলিলে সর্বসম্মতি দান ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। Agenda 21 এ পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক অনেক বিষয় উল্লেখিত হয়েছিল। এ কারণে জাতিসংঘ ৫ জুনকে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে পালনের ঘোষণা করে। Read More

ইটের আত্মকাহিনী: যাহা বলিব সত্য বলিব

গতকাল হানিফ সংকেত-এর “যাহা বলিব সত্য বলিব” বইয়ের একটি গল্প পোস্ট করেছিলাম যার নাম ট্রাকের আত্মকাহিনী: যাহা বলিব সত্য বলিব । আজ তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় এবং এই বইয়ের আরেকটি গল্প পোস্ট করছি। এই বইয়ের জন্য এটাই আমার শেষ পোস্ট। আর কোন গল্প লিখে পোস্ট করার আপাতত কোন ইচ্ছে নেই।

তো শুরু করা যাক এবার – ইটের আত্মকাহিনী দিয়ে। কিভাবে বেচারা ইটেরা সকল কষ্ট সহ্য করে আমাদের বিল্ডিংগুলো দাঁড় করিয়ে রেখেছে এবং তাদের না বলা অব্যক্ত কথা জানা যাক — Read More

ট্রাকের আত্মকাহিনী: যাহা বলিব সত্য বলিব

হানিফ সংকেত  আমাদের সবার কাছে অতি প্রিয় এবং পরিচিত একটি নাম। অনেক আগে হানিফ সংকেত-এর “যাহা বলিব সত্য বলিব” নামের একটি বই বের হয়েছিল। ছোটবেলায় এক বইমেলা থেকে আমাকে আমার আব্বু-আম্মু এই বইটা কিনে দিয়েছিল। এই বইয়ের প্রত্যেকটা গল্পই বেশ চমৎকার। যারা বইটি পড়েননি, তাদের জন্য সেই বই থেকে একটি গল্প এখানে তুলে ধরলাম। তাহলে আন্দাজ করতে পারবেন, বইটি কেমন মজার :)

তো শুরু করা  যাক – ট্রাকের আত্মকাহিনী দিয়ে। একটি ট্রাক যাহা বলিব সত্য বলিব মর্মে তার আত্মকাহিনী আমাদের সবার সামনে উপস্থাপন করবে :)

 

আমার নাম ট্রাক। ঢাকার ধোলাইখাল এলাকায় আমার জন্ম। তবে কখন কোন তারিখে আমার জন্ম হয়েছিল তা আমি কি করে বলব? আমি কি আর সন তারিখের হিসাব জানি? তবে দুই নাম্বার তক্তা দিয়ে লোহার পেরেক ঠুকে যখন আমার পিছনে একটি শরীর তৈরি করা হইছিল তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার জন্ম কত যন্ত্রণাদায়ক। Read More

শিক্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি: হৃদয়স্পর্শী কাহিনী

২০০৯ সালের শুরুর দিকে বেশ অবসর সময় পেয়েছিলাম। তখন যে বই বা লেখাই পেতাম, সেটাই পড়তাম। এরকম পড়ার সময় কাহিনীটি কোন এক বই থেকে পড়েছিলাম। তখন লেখাটি আমার মনে বেশ ভালোভাবে গেঁথে গিয়েছিল। তাই সেই বই থেকে সরাসরি দেখে লিখেছিলাম এবং ব্লগে শেয়ার করেছিলাম। এখন আবারও আমার ব্লগে এই লেখাটি শেয়ার করছি।

 

ইংল্যান্ডের একটি চিকিৎসা সাময়িকী অনেক আগে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করেছে। নিচে তা তুলে ধরলাম :
মেরী নামের একটি মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলে তার মা তাকে খুব ভাল পাত্রের কাছে বিবাহ দিল। স্বামী অত্যন্ত প্রতাপশালী ও সামাজিক ছিল। তার ঘরে একটি কন্যা সন্তানও জন্ম নিল। মায়ের আর কোন সন্তান না থাকায় সে মেয়ের সাথেই থাকত এবং নাতনীর লালন পালনে সহযোগিতা করত। নাতনী যখন একটু বড় হল এবং নিজের পোষাক পরিচ্ছদ নিজেই পাল্টাতে সক্ষম হলো তখন মেরী ভাবল যে, মায়ের উপস্থিতিতে ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এজন্য বৃদ্ধাকে এখান থেকে সরাতে হবে। মা বৃদ্ধা ভাতা পেতেন। এজন্য তাকে বৃদ্ধাদের বিশেষ ঘর ওল্ড হাউসে প্রবেশ করিয়ে দিল। Read More

ভাবনার অন্তরালে

আমার এখন পর্যন্ত লেখা কবিতা নেহায়েৎ খুবই কম। তবে তার মাঝে এই কবিতাটা আমার সবচাইতে প্রিয়। হয়তো ছন্দ বা কবিতার যেসব গুণ থাকা দরকার, তার অনেক কিছুই এতে অনুপস্থিত। কিন্তু তবুও আমি সারাজীবন এই কবিতাটাকে পছন্দ করে যাব। আগেই বলেছি “কবিতা এবং আমি” — পরস্পরের মাঝে ১৮০° ডিগ্রি কোণ বসানো আছে। তাই আগেই বলে রাখছি এসব ছাঁইপাশ কবিতা শুধুমাত্র মনের খায়েশ মেটানোর জন্য লেখা।

যদি কবিতাটি পড়া শুরু করেন, নিজের রিস্কে কবিতাটি পড়বেন। :v

Read More

বৃষ্টির খোঁজে

ব্লগে লেখা আমার প্রথম কবিতা/ছড়া।

লেখার সময়কালঃ ২৪ মে, ২০০৯

আসলে কবি হিসেবে আমি কখনো নিজেকে কল্পনাও করতে পারিনা (অন্য কেউও পারবে না :p )। আমার সাথে কবিতার সম্পর্ক পুরোপুরি ১৮০° ডিগ্রি অবস্থানে। ছোটবেলায় অনেকের কবি প্রতিভার কথা শুনে খানিকটা ঈর্ষান্বিত হতাম। হাজার চেষ্টা করেও মাথা থেকে একটা লাইনও কবিতার মত করে বের করা যেত না। তবে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর ক্লাস শুরু হওয়ার মাস খানেক আগে অবসর সময়ে হঠাৎ করে এক-দুইটা ছন্দ মাথায় উঁকি দিল। ভাবলাম ছাঁইপাশ হোক, আর যাই হোক, অন্তত আমার এক-দুইটা কবিতা আছে, এটা তো অন্তত বলতে পারবো। :p তাই এরপর থেকে চেষ্টা করে টেনেটুনে ৩-৪ টার মত কবিতা মাথা থেকে বের করেছিলাম। এরপরে অবশ্য ক্ষান্ত দিয়েছি সেই প্রচেষ্টার! ;) Read More

একটি কাহিনী এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

আফ্রিকায় এক কৃষক সুখী ও পরিতৃপ্ত জীবন নির্বাহ করত । সে সুখী কারণ তার যা ছিল তাতেই ছিল সন্তুষ্ট; আবার সে সন্তুষ্ট ছিল বলেই সুখী ছিল । একদিন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি তার কাছে হীরার মহিমা-কীর্তন করে হীরার ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক কথা বললেন । তিনি জানালেন, “তোমার যদি বুড়ো আঙ্গুলের আকারের একটি হীরা থাকে তবে তুমি একটা শহরের মালিক হতে পারবে,আর হাতের মুঠির আকারের একটি হীরা থাকে তবে সম্ভবত একটা দেশের মালিক হতে পারবে।” এই বলে বিজ্ঞ ব্যক্তিটি চলে গেলেন কিন্তু সেই রাতে কৃষক আর ঘুমাতে পারলনা । তার মনে সুখ ছিলনা, কারণ হীরার অভাবে সে অতৃপ্তির বোধে পীড়িত । অতৃপ্ত বলেই সে অসুখী ।
পরদিন থেকেই কৃষক তার খামারবাড়ি বিক্রি করার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিল । শেষ পর্যন্ত সমস্ত বিক্রি করে, তার পরিবারকে একটি নিরাপদ জায়গায় রেখে সে বেরিয়ে পড়ল হীরার খোজেঁ । Read More